পোস্টগুলি

মার্চ, ২০২৬ থেকে পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে

ছায়াশরীর: শ্মশানের মৌন সাক্ষী (পর্ব ৭)

ছবি
  পর্ব ৭: শ্মশানের মৌন সাক্ষী ছায়াশরীর ​শহরের রাজপথ এখন আর সেই পরিচিত ব্যস্ততায় নেই; তা এখন এক অপার্থিব কুয়াশায় আচ্ছন্ন। এই কুয়াশা প্রথাগত শীতের জলীয় বাষ্প নয়, বরং এক বিষাক্ত ও ভারী গ্যাসের মতো চারপাশকে গিলে খাচ্ছে, যার ভেতর দিয়ে তাকালে মনে হয় পৃথিবীটা যেন কোনো পুরনো সাদা-কালো স্থিরচিত্র। অয়নের গাড়ি যখন শহরের একবারে নির্জন প্রান্তের সেই প্রাচীন শ্মশানঘাটের দিকে এগোচ্ছিল, তখন তার গাড়ির হেডলাইটের শক্তিশালী আলো সেই জমাট বাঁধা অন্ধকারে বাধা পেয়ে বারবার ফিরে আসছিল। হেডলাইটের আলোতে কুয়াশাগুলো যেন হাজার হাজার ছোট ছায়াশরীর হয়ে নৃত্য করছে। অয়ন রিয়ার ভিউ মিররে বারবার দেখল তার পেছনের সিটে বসা সেই নিশ্চল অবয়বটিকে—তার মা। মা কোনো কথা বলছেন না, তাঁর ঠোঁটের কোণে ঝুলে থাকা সেই ম্লান হাসিতে লুকানো রয়েছে এক অনন্তকাল ব্যাপী বিষাদ। অয়ন বুঝতে পারল, এই মা আসলে কোনো সাধারণ অশরীরী নন, বরং তার নিজের তপ্ত মস্তিস্কের এক অলৌকিক রক্ষাকবচ, যা তাকে এই আসন্ন প্রলয় থেকে মানসিকভাবে স্থির রাখার অন্তিম চেষ্টা করে যাচ্ছে। ​শ্মশানঘাটের লোহার বিশাল গেটটা এক বিভীষিকাময় জং ধরা শব্দে আপনিতেই খুলে গেল। অয়ন গাড়ি থেকে নেমে মা...

ছায়াশরীর: ধমনীতে কালীগঞ্জ (পর্ব ৬)

ছবি
ছায়াশরীর: ধমনীতে কালীগঞ্জ                                      ছায়াশরীর পর্ব ৬: অভিশপ্ত উত্তরাধিকার ​ ঘরের কোণে রাখা সেই পৈশাচিক মেমোরি কার্ডটি থেকে নির্গত নীলচে ধোঁয়া এখন ঘরের সিলিং ছুঁয়ে এক কালচে মেঘের আস্তরণ তৈরি করেছে। অয়ন লক্ষ্য করল, সেই ধোঁয়া যেন স্থির নেই; ওটা ধীরে ধীরে সংকুচিত হয়ে একটি অস্পষ্ট মানবেতর অবয়ব ধারণ করার চেষ্টা করছে। কিন্তু তার চেয়েও বেশি হাড়হিম করা দৃশ্য হলো দেয়ালের ওপর অয়নের নিজের ছায়াটা। লণ্ঠনের ম্লান আলোয় সেই ছায়াটা এখন আর অয়নের শারীরিক নড়াচড়াকে অনুসরণ করছে না। অয়ন ভয়ে হাত তুললে ছায়াটা মূর্তির মতো স্থির থাকছে, অয়ন হাপিত্যেশ করে নিশ্বাস নিলে দেয়ালের সেই কালো অবয়বটা যেন পৈশাচিক উল্লাসে বুক ফুলিয়ে ফুঁসছে। নিজের অস্তিত্বের এই পৈশাচিক বিভাজন অয়নকে এক অসহ্য মানসিক যন্ত্রণার অতল গহ্বরে ঠেলে দিল। ​সে পাগলের মতো তার বাবার সেই ধুলোমাখা, জরাজীর্ণ ডায়েরিটা আবার বুকের সাথে জাপ্টে ধরল। হলদেটে পাতার ওপর বাবার পরিচিত সেই কাটাকাটা হাতের লেখাগুলো এখন তার কাছে অন্ধকারের গোলকধাঁধায় একমাত্র...

ছায়াশরীর: শূন্যতার প্রতিধ্বনি ​পর্ব ৫: সংক্রমণের শুরু

ছবি
ছায়াশরীর: শূন্যতার প্রতিধ্বনি ​                                      ছায়াশরীর পর্ব ৫: সংক্রমণের শুরু ​শহরের কৃত্রিম কোলাহল অয়নের কানে এখন সমুদ্রের গর্জনের মতো শোনায়। চারদিকের ব্যস্ত মানুষ, ঝলমলে নিয়ন আলো আর যান্ত্রিক শব্দ—সবকিছুই কেমন যেন অবাস্তব, যেন কোনো সস্তা থিয়েটারের মঞ্চসজ্জা। পুলিশ কমিশনারের অফিস থেকে বের হয়ে আসার সময় অয়নের পা দুটো বারবার টলে যাচ্ছিল। কমিশনার যখন গম্ভীর মুখে জানালেন যে, পুলিশ বাহিনী কালীগঞ্জে গিয়ে কেবল এক ধু-ধু প্রান্তর আর জং ধরা মাইলপোস্ট পেয়েছে, তখন অয়নের মাথার ভেতর সেই বৃদ্ধের অট্টহাসিটা ড্রামের মতো বাজতে শুরু করল। সে কি তবে উন্মাদ হয়ে যাচ্ছে? নাকি সে এমন এক সত্যের লুপে আটকে গেছে যা আধুনিক বিজ্ঞানের সংজ্ঞায় পড়ে না? ​অয়ন তার ছোট অ্যাপার্টমেন্টে ফিরে এসে দরজাটা ভেতর থেকে তিনটি ভারী তালা দিয়ে বন্ধ করল। জানালার পর্দাগুলো টেনে দিয়ে পুরো ঘরকে বাইরের জগত থেকে বিচ্ছিন্ন করে দিল সে। তার বারবার মনে হচ্ছে, প্রতিটা অন্ধকার কোণ থেকে কোনো এক মুখহীন অবয়ব তাকে নিরন্তর পর্যবেক্ষণ করছ...

​"ছায়াশরীর: প্রথম পর্ব"| রহস্যময় ভৌতিক গল্প"।

ছবি
  ছায়াশরীর ১ম পর্ব : | রহস্যময় ভৌতিক গল্প"। রাতের নিস্তব্ধতা যখন কান ফাটানো চিৎকারের চেয়েও ভয়ঙ্কর হয়ে ওঠে, অয়ন তখন বুঝতে পারল সে ভুল পথে ঢুকে পড়েছে। ঘড়ির কাঁটা রাত দুটোর ঘর ছুঁইছুঁই। উত্তরের কনকনে হিমেল হাওয়াটা আজ যেন হাড়ের মজ্জা পর্যন্ত কাঁপিয়ে দিচ্ছে। অয়নের পুরনো সেডান গাড়িটা কুয়াশার ঘন চাদর চিরে এগিয়ে চলছে। উইন্ডশিল্ডের ওপর ওয়াইপার দুটো একঘেয়ে শব্দ করে জল সরিয়ে দিচ্ছে, যদিও বৃষ্টি নেই—আছে শুধু ভ্যাপসা আর্দ্রতা আর এক অদ্ভুত গুমোট ভাব। ​অয়ন পেশায় একজন ইনভেস্টিগেটিভ জার্নালিস্ট। মাস তিনেক আগে ঢাকার এক প্রভাবশালী ব্যবসায়ীর নিখোঁজ হওয়া নিয়ে সে কাজ করছিল। সূত্র ধরে সে জানতে পারে, ওই লোকটিকে শেষবার দেখা গিয়েছিল উত্তরবঙ্গের এই ‘কালীগঞ্জ’ নামক এক পরিত্যক্ত গ্রামের সীমান্তে। এলাকাটা নিয়ে অনেক মুখরোচক গল্প প্রচলিত আছে। কেউ বলে ওখানে রাতে পথ হারানো মানেই কোনো এক আদিম অতৃপ্ত আত্মার জালে আটকে পড়া। অয়ন এসবে বিশ্বাস করে না, কিন্তু আজকের রাতটা তাকে ভাবিয়ে তুলছে। ​গাড়ির ড্যাশবোর্ডে থাকা জিপিএস ম্যাপটা হঠাৎ করেই কাঁপতে শুরু করল। স্ক্রিনে লাল-নীল রঙের বিকৃতি দেখা দিচ্ছে। অয়ন ফোনটা হাতে নিয়ে ঝাকুনি...

ছায়াশরীর: আয়নার ওপারে মৃত্যু (পর্ব-৩)

ছবি
ছায়াশরীর: অভিশপ্ত মাইলের শেষে                                    ছায়াশরীর ​ পর্ব ৩: আয়নার ওপারে মৃত্যু ​অয়ন দেখল তার হাতে সেই নিখোঁজ ব্যবসায়ীর আংটি পরা কাটা আঙুলটা কাঁপছে। না, এটা কেবল কোনো বিভ্রম নয়। আঙুলটির রক্তে মাখা চামড়াটা কুঁচকে যাচ্ছে, যেন সেটা জীবন্ত হয়ে অয়নের হাতের তালুতে কামড়ে বসতে চাইছে। এক অসহ্য পচা মাংসের উৎকট গন্ধ এখন বাতাসের প্রতিটি কণিকায় মিশে আছে। মাইলপোস্টে রক্ত দিয়ে লেখা সেই 'আরও এক মাইল' যেন এক অনন্ত অন্ধকার গহ্বরের দিকে তাকে আমন্ত্রণ জানাচ্ছে। অয়ন বুঝতে পারল, সে এখন আর কেবল এক তথ্যানুসন্ধানী সাংবাদিক নয়; সে এখন এক অদৃশ্য মরণফাঁদের প্রধান অভিনেতা। ​সে দৌড়াতে শুরু করল। পিচঢালা রাস্তাটা এখন নরম কাদার মতো মনে হচ্ছে। পায়ের নিচে প্রতিটি পদক্ষেপে মনে হচ্ছে কেউ যেন নিচ থেকে তার পা টেনে ধরছে। বনের প্রতিটি গাছ যেন জীবন্ত কঙ্কাল হয়ে হাত বাড়িয়ে তাকে জাপ্টে ধরতে চায়। হঠাতই কুয়াশা সরে গেল আর সে দেখল সামনেই সেই পরিত্যক্ত জমিদার বাড়ির বিশালাকার তোরণ। তবে কয়েক ঘণ্টা আগের জরাজীর্ণ ধ্বংসস্তূপ নয়;...

রক্ত ছাড়া কথা বলে না কালীগঞ্জের মাটি: অভিশপ্ত মাইলের দ্বিতীয় অধ্যায়

ছবি
  ছায়াশরীর: অভিশপ্ত মাইলের শেষে ​                          অভিশপ্ত মাইলের শেষে পর্ব ২: কালীগঞ্জের প্রেতচ্ছায়া ​গাড়ির ড্যাশবোর্ডে রাখা সেই রক্তমাখা হাতের ছাপ আর পাশের সিটে পড়ে থাকা জরাজীর্ণ চিঠিটা অয়নের হৃৎপিণ্ডের গতি বাড়িয়ে দিয়েছে। সে অনুভব করতে পারছে, কুয়াশা ভেদ করে আসা এই হিমেল বাতাস সাধারণ কোনো আবহাওয়া নয়; এটা কোনো এক অতৃপ্ত আত্মার দীর্ঘশ্বাস। অয়ন কাঁপাকাঁপা হাতে চিঠিটা তুলে নিল। হলদেটে পুরনো কাগজের ওপর লাল কালিতে লেখা শব্দগুলো যেন জীবন্ত হয়ে তাকে বিদ্রূপ করছে— "কালীগঞ্জে স্বাগতম অয়ন। আমরা তোর জন্যই অপেক্ষা করছিলাম।" ​'আমরা' কারা? আর তারা অয়নের নাম জানল কী করে? অয়ন একজন সাংবাদিক হিসেবে অনেক কঠিন পরিস্থিতির মুখোমুখি হয়েছে, কিন্তু আজকের এই অভিজ্ঞতা তার যুক্তিবুদ্ধিকে পরাস্ত করে দিচ্ছে। সে ইঞ্জিন স্টার্ট দেওয়ার চেষ্টা করল। কিন্তু চাবি ঘুরাতেই এক অদ্ভুত ঘড়ঘড়ে শব্দ হয়ে ইঞ্জিনটা আবার নিভে গেল। বারবার চেষ্টা করেও লাভ হলো না। মাঝরাস্তায় এই যান্ত্রিক গোলযোগ কোনো কাকতালীয় ঘটনা বলে মনে হচ্ছে না। ​হঠাৎ গাড়ির হেডলাইট দুটো দপ কর...

ছায়াশরীর: বিশ্বাসঘাতকের মুখোশ (পর্ব ৪)

ছবি
​ছায়াশরীর: অভিশপ্ত মাইলের শেষে                                    ছায়াশরীর ​পর্ব ৪: বিশ্বাসঘাতকের মুখোশ ​অয়ন যখন চোখ মেলল, তার মনে হলো সে কোনো এক আদিম অন্ধকারের গর্ভে আটকা পড়েছে। চারপাশ থেকে ধেয়ে আসা পচা স্যাঁতসেঁতে গন্ধ আর হাড়কাঁপানো শীতলতা তাকে মনে করিয়ে দিচ্ছিল যে, সে আর জীবন্ত পৃথিবীর অংশ নেই। ঘুটঘুটে অন্ধকারে হাতড়ে সে তার ভাঙা ডিএসএলআর ক্যামেরাটা খুঁজে পেল। ক্যামেরাটার লেন্সটা চুরমার হয়ে গেছে, ঠিক যেমন অয়নের সাজানো জীবনটা গত কয়েক ঘণ্টায় চুরমার হয়ে গেল। ​কুঠুরির ওপরের এক চিলতে ফোকর দিয়ে আসা ফিকে চাঁদের আলোয় অয়ন যা দেখল, তাতে তার আত্মা শুকিয়ে গেল। পাথুরে দেয়ালে হাজার হাজার মানুষের অবয়ব আঁকা—না, এগুলো ছবি নয়, এগুলো যেন রক্তের ছোপ দিয়ে তৈরি করা একেকটি অতৃপ্ত আত্মার দীর্ঘশ্বাস। হঠাৎ সেই পরিচিত, হাড়হিম করা ফিসফিসানি কুঠুরির দেয়াল ভেদ করে তার কানের কাছে আছড়ে পড়ল— "অয়ন, তুই কি জানিস তোর এই কাল্পনিক তেরো মাইলের যাত্রার আসল স্ক্রিপ্ট রাইটার কে?" ​অয়ন সর্বশক্তি দিয়ে চিৎকার করে উঠল, "কে তুমি? সামনে আসো! ক...