পোস্টগুলি

ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ থেকে পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে

আত্মার প্রেম — শেষ পর্ব: শেষ হিসাব

ছবি
                  ​গল্পের নাম: আত্মার প্রেম ​শেষ পর্ব: শেষ হিসাব ​বাড়ির পুরনো বেজমেন্ট। যেখানে একসময় আকমল খন্দকারের অবৈধ অস্ত্রের মজুদ আর কালো টাকা রাখা হতো, আজ সেখানে কেবল মৃত্যুশীতল নীরবতা। ইনস্পেক্টর জামান আর অবন্তী টর্চের আলো ফেলে নিচে নেমে আসতেই গন্ধে নাকে রুমাল চাপা দিল। গুমোট বাতাসে পচা মাংস আর কাঁচা রক্তের উৎকট গন্ধ। ​টর্চের আলো পড়তেই অবন্তীর মুখ দিয়ে একটা আর্তনাদ বেরিয়ে এল। বেজমেন্টের মাঝখানে থাকা পিলারের সাথে শেকল দিয়ে বাঁধা আকমল খন্দকার আর জহির সাহেব। তাদের পরনের দামী পোশাক এখন ছিন্নভিন্ন। কিন্তু অবাক করা বিষয় হলো, তাদের সামনে টেবিলের ওপর সাজানো রয়েছে অমির প্রিয় 'রক্তশিমুল' ফুল। আর সেই ফুলের স্তূপের ওপর রাখা একটা পুরনো ফাইল। ​অমি এখন আর সায়েমের শরীরে নেই। সে সরাসরি অবন্তীর সামনে এসে দাঁড়াল। তবে এবার সে বীভৎস কোনো আত্মা নয়, বরং সেই কলেজে পড়া শান্ত ছেলেটি। যার চোখে ঘৃণা নয়, ছিল কেবল গভীর বিষাদ। ​অমি ফিসফিস করে বলল, "অবন্তী, আমি বলেছিলাম না, রাজনীতিতে কেউ বন্ধু হয় না? এই ফাইলটা দেখো। তিন মাস আগে তোমার বাবা আমাকে মারার জন্য...

আত্মার প্রেম (দ্বিতীয় পর্ব) | শিউরে ওঠা প্রতিশোধ

ছবি
দ্বিতীয় পর্ব: আত্মার প্রেম ​বাসর ঘরের আলো-আঁধারিতে অবন্তী দেখল সায়েম সোফার ওপর সোজা হয়ে বসে আছে। তার সেই উপড়ে ফেলা চোখের কোটর থেকে কালো অন্ধকার উপচে পড়ছে। কিন্তু অদ্ভুত ব্যাপার হলো, সায়েম নড়ছে না, অথচ তার গলা দিয়ে অমির কণ্ঠস্বর অনর্গল বেরিয়ে আসছে। ​অমি সায়েমের মুখ দিয়ে বলছে, "অবন্তী, তোমার কি মনে আছে সেই দিনটার কথা? যেদিন তোমার বাবা আমার বুকে পা দিয়ে বলেছিলেন—গরিবের রক্তের কোনো দাম নেই? আজ দেখো, সেই দামি রক্তের বন্যায় এই রাজপ্রাসাদ ডুবে যাচ্ছে।" ​অবন্তী ভয়ে কুঁকড়ে গিয়ে দেয়ালের সাথে মিশে গেল। তার চিৎকার করার শক্তিটুকুও হারিয়ে গেছে। সে লক্ষ্য করল, সায়েমের হাতগুলো ধীরে ধীরে নীল হয়ে যাচ্ছে এবং নখগুলো অস্বাভাবিক লম্বা আর ধারালো হয়ে উঠছে। সায়েম হঠাৎ খিকখিক করে হেসে উঠল, সেই হাসিতে মানুষের কোনো রেশ নেই। ​ঠিক সেই সময় নিচতলায় পুলিশের সাইরেনের শব্দ শোনা গেল। আকমল খন্দকারের অন্তর্ধান এবং ড্রয়িংরুমে পাওয়া সেই কাদা মাখা জুতো নিয়ে বাড়িতে তখন লঙ্কাকাণ্ড চলছে। ইনস্পেক্টর জামান সাহেব হন্তদন্ত হয়ে দোতলায় উঠে এলেন। তার সাথে ছিল আকমল খন্দকারের প্রধান দেহরক্ষী কাসেম। ​কাসেম ঘরে ঢুকেই সায়েমকে ওভাব...

আত্মার প্রেম — পর্ব: ০১ | ভৌতিক ও রোমান্টিক গল্প

ছবি
​ আত্মার প্রেম :  শহরের অভিজাত এলাকা 'গুলশান ভ্যালি'। আজ এই এলাকার সবচেয়ে ক্ষমতাধর মানুষ, প্রভাবশালী রাজনৈতিক নেতা আকমল খন্দকারের একমাত্র মেয়ে অবন্তীর বিয়ে। রাস্তার মোড় থেকে শুরু করে বাড়ির সদর দরজা পর্যন্ত কয়েক হাজার মরিচবাতি জ্বলছে। বাড়ির সামনে দামি দামি গাড়ির বহর। শহরের নামকরা মন্ত্রী-এমপিরা আজ এখানে আমন্ত্রিত। ​কিন্তু দোতলার বিশাল বারান্দায় কনের সাজে পাথরের মতো বসে আছে অবন্তী। পরনে দামী লাল বেনারসি, গলায় হিরের নেকলেস। সাজগোজে কোনো কমতি নেই, শুধু চোখের নিচে কালিটা মেকআপ দিয়েও ঢাকা যাচ্ছে না। অবন্তী বারবার তার কাঁপা হাতের দিকে তাকাচ্ছে। সেখানে মেহেদির কারুকাজ করা, কিন্তু কেন যেন তার মনে হচ্ছে মেহেদি থেকে কাঁচা রক্তের গন্ধ আসছে। ​অবন্তীর মনে পড়ে যাচ্ছে তিন মাস আগের সেই বৃষ্টিভেজা বিকেলের কথা। ​অমি ছিল কলেজের মেধাবী ছাত্রনেতা। সাধারণ মধ্যবিত্ত ঘরের ছেলে হয়েও সে আকমল খন্দকারের দুর্নীতির বিরুদ্ধে ক্যাম্পাসে আওয়াজ তুলেছিল। আর সেই প্রতিবাদের মাঝেই অবন্তীর সাথে তার পরিচয়। রাজনীতি আর আদর্শের লড়াইয়ের মাঝে কখন যে প্রেম ঢুকে পড়েছিল, কেউ টেরই পায়নি। কিন্তু খবরটা আকমল খন্দকারের কানে পৌঁছাত...